টুরিস্ট না ট্রাভেলার? এই প্রশ্ন যেদিন প্রথম জানসি, দুনিয়াটা তিতা হইয়া গ্যাসে। নিজের চরিত্র নিজের কাছে ফাঁস হওয়া সুখকর কোন বিষয়না।

মনে মনে আজীবনের ট্রাভেলার এই পালওয়ান আসলে ঘর হইতে বাইর হইসে এই সেদিন। আর বাইর হইয়াই প্রেমে পড়সে নিজের থেকেও কয়েক কাঠি সরেস এক পাগলির। স্বপ্ন দেখা শুরু হইল, দিক বেদিক ঘোরা ফেরাও চলতে লাগল। পরিণয় রে ‘’পরিণতিদেয়াও হইল। so, ঘর ছাড়া হইলনা, বান্ধা হইল উপরন্তু। মনে প্রাণে ভাদাইম্মা দুই আত্মা খানিকটা হইলেও বান্ধা পড়ল নিয়মে, হিসাব নিকাশে! আমরা তাই নানাবিধ স্বপ্নে মগ্ন থাকতে থাকতে দুনিয়াদারিরে গালাগালিও শুরু করি কম বেশি। বেশির ভাগ সময়েই এইটা, ফাঁপরে পড়া দুই আত্মার একসাথে হাপিত্যেশ, ঘর না ছাড়ার আক্ষেপ । 

যাই হোক আমাদের ট্যুরিস্টিক ছোটখাট অভিযান চলে মাঝেমধ্যেই, সঙ্গী হয় আমাদের দুই বন্ধু super cool আদনান, নইলে ইহাব।চাইরজনের একসাথে হওয়াটা যদিও প্রায় অসম্ভব ব্যস্ত এই দুই মহারথীর জন্য।

আফসোস থাকে, টাকা পয়সার টানাটানি থাকে সবথেকে বেশি, তবুও আশেপাশের মন্দ লোকের (আসলে শুভাকাঙ্খি) সাবধানবাণী  উপেক্ষা করে, কিছু কিছু সুজন কে ঈর্ষান্বিত করে আমরা বাইর হইয়াই যাই।

এইবারও বাইর হইসিলাম। বৈশাখের বদখত গরমে। আমাদের একজনকে আরেকজনের আবিষ্কারের বসর পুরান্তিতে।

সাথে ছিল আদনান। সদ্য চাকরিচ্যুত ‘inefficiency’র জন্য। অসম্ভব বদমেজাজি , মাথাগরম এই পোলাটা আমার হতাশাজনক বন্ধু ভাগ্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বুঝিনা ওরে আমি ক্যামনে হজম করি। (সম্ভবত আমারে যেমনে মাইনসে মাইনা নেয়)

যাইহোক এপ্রিলের এক ভোরবেলায় যাত্রা শুরু করি আমরা তিনজন। আমি, এশা, আদনান। সঙ্গী আদনানের জানের টুকরা  XINGFU 125, আর আমগো Honda CD 200। প্রসঙ্গে বইলা রাখি, আগের বসরের সেই অভিজ্ঞতায়তিনিআমারে যথেষ্ট ভোগাইসেন, তেনারে ট্রাকে তুলতে হইসে মাইল দুয়েকের জন্য। খাঁড়া পাহাড়ে ঠেলতে হইসে বহুতবার। আমার ভবিষ্যৎ প্রেমিকার সামনে যথেষ্ট তামাশার বিষয় বানানোর পরও আমি তারে কিছু কম ভালবাসিনাই। আমার mountain বাইক বাদ দিয়া তারেই সঙ্গী করসি বরাবরের মত।

প্রথম গন্তব্য চাঁটগা, আদনানের বাড়ি। বৈশাখের রোদ্রের বদলে আমরা পাইলাম ব্যপক বাতাস, মেঘে ঢাকা আকাশ। এইজন্যই কিনা জানিনা, আদনানরে একটু পর পর থামতে হইল ব্লাডারের চাপ সহ্য করতে না পাইরা। যেইটা এশার জন্য ছিল ব্যপক বিনোদন।

speed ৫০ না ছাড়ায়া, ছোট বড় অনেক গুলা break নিয়া, শরীর এবং বাইক গুলারে পর্যাপ্ত আরাম দিয়া দুপুরের পর পর পৌঁছাইলাম আদনানের বাড়ি। এমন একটা trip-এ মায়ের হাতের রান্না least expected বিষয় হইলেও এই আশীর্বাদ আমরা পাইসি বেশিরভাগ সময়েই। যাইহোক ঘণ্টাখানেক বিরতি দিয়া এইবার ছুটলাম বান্দরবানের দিকে।

routine checkup করতে গেলাম কাছের mechanic shop এ। বরাবরের মত লোকজন জইম্মা গেল,আদনানের bike দেখতে। আর ওর push up মারা বুকটা আরও ফুইলা গেল!

যাই হোক এরপর শুরু হইল আসল রাস্তা।

কখনো রোদ ছিল, মেঘ ছিল বেশি। বাতাস আরও বেশি। শেষ বিকেলে আমরা পৌঁছাইলাম থানচি’র একটু আগে, এই জায়গাটা নিয়া আমার আর এশার obsession আসে একরকম। So আমরা থামলাম। আমি জায়গা নিয়া fascinated হই কম, স্মৃতি নিয়া বেশি। কিন্তু এই জায়গাটার জাদু বোধয় অন্যরকম।

একপাশে উঁচা পাহাড়ের backdrop, যা পার হইলেই থানচি। ওইখানে আলোরা জানি কি ঘটনা ঘটায়। জাদু জাদু লাগে।

পৌঁছান মাত্র এশা আর আদনান রাস্তাতেই সটান! আমি ভিডিও-টিডিও সাইরা ওদেরকে join করতে গিয়া দেখি উইঠা পড়সে ওরা। হাতে সময় ছিল কম। সন্ধ্যা প্রায় হয় হয়। এশা আর আমার নিজের মত করে একটু time ও কাটানো হয়নাই, আফসোস থাকল এইটা। অনেক দেয়ার বিনিময়ে আমার কাস থেকে পাহাড় ছোটখাটো কিছু জিনিস রাইখা দেয় বোধয়। গতবার হারাইসি iPhone- যাবতিয় ভিডিও আর ছবি সহ, এইবার আমার বহু পুরান,অনেক বিশ্বস্ত 5D।

তবুও ওই অল্প খানিকটা সময়ে আসলে ছবিটা তোলা হইসে বেশি। আমাদের প্রিয় poser আদনান সব কিছুতেই হান্দায়া যায়। ওরে কে জানি কবে কইসে side থেকে ওরে আসল পুরুষ লাগে। আর একটু কাইত হইয়া হাসি দিলেই নাকি মাইয়ারা কাইত। ও তাই সেই চেষ্টাই করল। খুব শখ কইরা আমি আর এশাও একটু time চাইলাম ওর থিকা। ওর কাসে কৃতজ্ঞ, যৎকিঞ্চিত হইলেও সেটা দিসে ও।

সন্ধ্যায় আমরা শেষ ১০ কিলো পার হয়ে থানচি পৌছালাম।

নিশ্চিত ছিলামনা রেমাক্রি বা অন্যান্য জায়গায় যাওয়া সম্ভব কিনা। trip’র কেবল দ্বিতীয় দিনেই পকেটের অবস্থা সুবিধার না। বড় কোন গ্রুপের সঙ্গী হইলে হয়ত possible ছিল। তাই নিতান্ত অনিচ্ছাতেই রওনা দিলাম থানচি আলিকদমের সেই রাস্তায়, গতবার যেইখানে ইজ্জত খোয়াইছিলাম এশার কাসে। প্রসঙ্গত বলে রাখি, এইটা নাকি বাংলাদেশের সবচে উঁচা রাস্তা, যেইখান দিয়া গাড়ি যাইতে পারে। দুই তিনটা অসম্ভব বিপদজনক বাঁক আসে এইখানে। আর আসে কয়েক কিলো খাঁড়া রাস্তা।

ডিম পাহাড়ের কাসে পৌঁছাইতে পৌঁছাইতে দেখি খালি গায়ে, হাতে সাবান, কান্ধে গামসা এক লোক আদনানরে দাড় করায়ে কি জানি কয়। কাছে গিয়া শুনলাম এইটা army checkpost। রাস্তা তেনারা বন্ধ করে দিসেন।

ঘটনা হইল, এই রাস্তায় সপ্তাহ খানেক আগে তিন বাঙ্গালি গরু ব্যবসায়ী খুন হন। আর গত কয়েক মাসে খুন হইসেন আরও কয়েকজন। বিভিন্ন মহলের জিয়ায়ে রাখা গেঞ্জামে এইসব ত ঘোটতাসে অনেক। নিজের অস্তিত্ব বাঁচাইতে যারা প্রতিবাদ করসিল, তাদের আন্দোলন টারে নষ্ট ত করসি আমরা আগেই। নোংরাও করসি। bi product হিসেবে কত কিছুই ত জন্মাইসে। কার দোষ, কি ঘটনা আমরা তার কতটুকু জানি! বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের মত পবিত্র বিশ্বাস মাথায় নিয়া বরং গালি দিতে পারি, শালা জংলি বর্বর। তার উপরে আমরা আবার আদার ব্যপারি, স্বার্থপর ট্যুরিস্ট। এইসব অঞ্চলে আমরা আসি শুধুই নিতে। so আমাদের ছোট মাথা আমরা ঘামাইনা এইসব বিষয়ে। আমরা বরং তর্ক জুড়ে দেই army’র সাথে। অনুরোধ করি আমাদেরকে যাইতে দিতে। মাঝের সময়টা কিন্তু মজাতেই ছিলাম!

প্রায় ঘণ্টা দুয়েক আটকে থেকে, এক প্যাকেট biscuit, এক বোতল পানি, আর একটা derby’র সুখটানে আমরা অশেষ কৃতজ্ঞ হই তাদের প্রতি।তারা আমাদেরকে নিজ দায়ীত্বে যাওয়ার শর্তে অনুমতি দেন।

এরপরের রাস্তাটুকু নির্বিঘ্নেই পার করলাম, মাঝে আদনানের এক খালার firm house (নাকি estate?) এ থামলাম। অনেক সাহসী প্রৌঢ় দম্পতি। অনেক আপ্যায়ন করলেন নিজেদের বাগানের ফল টল দিয়া। ঘণ্টাখানেক পর সোজা রামু।

আদনানের দাদায় টিলার উপরে পঞ্চাশের দশকে এই বাড়ি বানাইসেন। পুরনো গন্ধ সবখানে। অদ্ভুত। খুব moody। বুঝলাম, আদনান কই পাইসে এমন মেজাজ।

সেই গাছটায় ওঠা হয়নাই এবার। এছাড়া আর সবই করসি কমবেশী। ঘুরসি ফিরসি, খাইসি দাইসি। ভর দুপুরে একটু জলকেলিও করসি।

ধন্যবাদ এশা।

credit:

সাদাকালো ছবি, ২-৪ টা ছাড়াঃ সৈয়দ আসিফ মাহমুদ।

iPhone’র ছবি selfie সহঃ মূলত ইরতেফা ইরাদত এশা।

রঙ্গিন ছবিঃ আদনান ওয়াহিদ।

 

ভিডিও নিয়া আমার বিশেষ অভিজ্ঞতা নাই, editing এ-ত পুরাই মূর্খ। technology’র মূল target বোধয় মূর্খরাই। এই জন্যই iMovie দিয়া video টা বানায়া ফেলতে পারলাম। এশা’র জন্য।