অসম্ভব সৃষ্টিশীলতা অর্জন করতেসি আমরা মানুষ মারায়। ‘অভিনব’ শব্দটাকে আমরা প্রায় দৈনন্দিন বানায়ে ফেলতেসি এই বিষয়ে। গত দেড় বসরে এর একটা নতুন সংযোজন হইতেসে পাছায় বাতাস দিয়া মারা। পত্রিকা সূত্রে যেই নামগুলা জানসি, প্রথমে রাকিব, এরপর সাগর- এই দুইজন মারা গ্যাসে। আর injured হইয়াও বাঁইচা আছে আতিয়ার, ফরহাদ এবং ৩ দিন আগে আরন নামের আরেক বাচ্চা। এদের মধ্যে একজন যুবক, আর সবাই বাচ্চা, পনের বসরের চেয়ে কম বয়স। গত অগাস্ট থেকে এই অগাস্ট পর্যন্ত এক বসরে ৫ জন এই বিষয়টার স্বীকার।

ঘটনা যদি জানতে চান, compressor machine বইলা একটা জিনিস আসে, যেইটা দিয়া বাতাস তৈরি হয়, এবং চাকার হাওয়া দেয়া থেকে শুরু কইরা screw লাগানো, তীব্র বাতাসে ফুটা-ফাটা পরিষ্কার বহু কাজেই এইটা ব্যবহার করা হয় সারা দুনিয়া এবং আমাদের দেশে। আমাদের দেশে এর বাড়তি ব্যবহার পাছায় বাতাস দেয়াতে।

Compressor Machine. Photo: Sayed Asif Mahmud

দুনিয়ার আর কোথায় এর এমন ব্যবহার আসে আমি জানিনা। ইতিহাসে আমার গ্যান নাই, বিদ্যা বুধ্বিও খুব অল্প। তাই অন্য কেউ আমারে পুরা বিষয়টা নিয়া enlightened করলে উপকৃত হব।

প্রথম ঘটনা, মানে রাকিবের ঘটনা জানার পর অনেক তোলপাড় হয়, এবং আমার জানামতে বাংলাদেশের ইতিহাসের দ্রুততম হিসাবে ওরে মারসে যে, সাঙ্গপাঙ্গ সহ তার ফাঁসি’র আদেশ হয়। ওর পরে কি হয় আমি জানিনা। রাজনরে পিটাইয়া মারা এবং video কইরা social media’তে ছাইড়া দেয়ার কয়দিন পর ঘটছে বইলাই হয়ত পাবলিকের মনে আলোড়ন তুলসে বেশী।প্রথমে ঘটনাটা জানার পর তাজ্জব হইসি! – কষ্টের থেকেও বেশী বোধয় অবাক হইসি। একটা মানুষ ক্ষেপতে মারে, মারতেও পারে- এইগুলা সমাজে আসে, থাকবে! কিন্তু রাগের মাথাতেও তাৎক্ষনিক ভাবে এত অভিনব হয় ক্যামনে! (হয়ত ভবিষ্যতে অন্যান্য খুনাখুনি’র মত এইটাও normal ই হবে।)

গত এক বসরে এই বিষয়টা নিয়া ছিলাম আমি। আমার সময়ের অন্যান্য মৃত্যু নিয়াও ভাবতাসি। ধীরে ধীরে আমার অবাক হওয়া কমসে। প্রতিদিন “গোয়া মারা/খাওয়া’র” উপরে থাকা এই জাতি’র জন্য এইটা ত আসলে রুটিন ঘটনা। সকালে বিকালে আমরা জপ করি-

কাউরে শাস্তি/ উচিত শিক্ষা দিতে গেলেঃ দিমু ভইরা… গোয়া দিয়া বাঁশ ঢুকায়া দিমু… ধরে দিবানে…

নিজে হতাশা জনক ভাবে ধরা খাইলেঃ পি মারা খাইসি… গোয়া মারা খাইসি… হালায় এমন দিসে, এখনো রক্ত ঝরতাসে…

পাছা দিয়া লাল সুতা আমরা হরহামেশাই বাইর করি। আর যৌন অবদমনের এই দেশে, যেখানে রাস্তায় প্রেমিকাকে চুমা খাওয়া যায়না, কিন্তু রাস্তায় ধন বাইর কইরা মোতা যায়, আমরা প্রায়শই গুজব শুনি ধর্ম গুরু থেকে শুরু কইরা জনগণের বন্ধুরা পোলা খায়। ঘেঁটুপুত্র বইলা কোন একটা শ্রেণীও নাকি আছিল। সেইখানেও পায়ু পথের বিশাল ভূমিকা। শূলে চড়ান আর remand এ পাছা দিয়া ডিম ঢুকানোর শাস্তির গল্পও আমরা শুনি। তাইলে আর অবাক হই ক্যামনে!

আমাদের প্রতিদিনের নানা বিষয় উদযাপন আর যাপনে তাই পায়ু পথে আসক্তি আসে, থাকবে। আপাতত গত একবসরে জানামতে এমন ঘটনা ঘটছে ৫বার। না জানামতে নিশ্চয়ই আরও বহু। সামনের দিনেও ঘটবে অনেক। তখন বোধয় আর উত্তেজিত হবনা, অভ্যস্ত হব।

related links: 

Prothom Alo: 

Inhuman torture leads to boy’s death

নারায়ণগঞ্জে ‘পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে কিশোর হত্যা’

Somoy TV:

BDnews24.com: http://goo.gl/tda3aO

The Guardian: http://goo.gl/M8D5Lv

Unknown: https://www.youtube.com/watch?v=11kFiUCF81E

Samakal: http://goo.gl/knc6vP